শিরোনাম
◈ দ. এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য বাংলাদেশ ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুরস্ক ◈ ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস, সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ◈ স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে ◈ ডিপফেক-মিথ্যা তথ্য রোধে এআই নীতিমালা আনছে সরকার ◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ এশিয়ান গেমস ক্রিকে‌টে বাংলা‌দেশসহ ১০ দল চূড়ান্ত, অ‌ক্টোব‌রে খেলা হ‌বে জাপা‌নে  ◈ গ‌্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের হুম‌কি‌তে আ‌মি প্রস্রাব ক‌রে দেই, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত মো‌দি ◈ আগস্টে ইউপি নির্বাচনের তফসিল, আচরণবিধিতে আসছে বড় পরিবর্তন

প্রকাশিত : ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:১৯ দুপুর
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ওয়াই সেতুতে নেই আলো: সন্ধ্যার পর মাদকসেবি ও ছিনতাইকারীদের আড্ডা, ঝুঁকিতে পথচারীরা

১২ অক্টোবর, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। ব্রিজের এককোনায় কয়েকজন মাদকসেবি যুবক গোল হয়ে জটলা বেঁধে মাদক সেবন করছেন। সাংবাদিক দেখেই তারা ছুটে চলে যান। অন্ধকারে দেখে মনে হলো তারা দিনমজুর।

পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমন ঘটনা নিত্যদিনের। ব্রিজের লাইট না থাকার সুযোগে মাদক সেবন, ছিনতাই অহরহ ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

দেশের প্রথম এবং দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম ‘ওয়াই’ আকৃতির সেতু তিতাস সেতুটি সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে তলিয়ে যায়। কয়েক বছর ধরে সেতুর দুই পাশের সব সড়কবাতি বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নেই।

স্থানীয়দের ক্ষোভ, ১০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি আজ অন্ধকারে ডুবে আছে। অথচ কেউ যেন দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে না।

কুমিল্লার হোমনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সংযোগস্থলে তিতাস নদীর ত্রিমোহনায় নির্মিত এই সেতুটি এখন নিরাপত্তাহীনতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। রাত নামলেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢেকে যায় গোটা এলাকা।

 স্থানীয়রা জানান, দোকানপাট ও গাড়ির আলোই এখন একমাত্র ভরসা। এতে বিশেষ করে নারী, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

এ সুযোগে সেতুর ওপরই জমে উঠছে মাদকসেবীদের আড্ডা, ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনাও। তবু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চুপচাপ দর্শকের ভূমিকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছর ধরে সড়কবাতি নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও কেউ দায়িত্ব নিতে চাইছে না।

২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ১০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ৭৭১ মিটার দীর্ঘ ও ৮.১০ মিটার প্রস্থের এই আধুনিক সেতুটি। উদ্বোধনের পর প্রতিদিন দেশজুড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু আজ সেই সেতু অন্ধকারে ডুবে গিয়ে আকর্ষণ হারাচ্ছে দ্রুত।

স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন— এত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর বাতিগুলো বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকবে, অথচ প্রশাসন চুপ করে থাকবে— এটা কি দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নয়?

অটোরিকশাচালক রফিকুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর যাবত ব্রিজের বাতিগুলো নষ্ট হয়ে আছে, কিন্তু ঠিক করছে না। বাতিগুলো ঠিক করলে আমরা ঝুঁকি ছাড়া ব্রিজ পারাপার করতে পারতাম। 

স্থানীয় বাসিন্দা ফজর আলী বলেন, বাতিগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর থেকে অন্ধকারে ছেয়ে যায়, মাঝে মাঝে চুরি হয়। মানুষ রাতে ব্রিজ পারাপার করতে ভয় পায়, কারণ মাদকসেবীদের আনাগোনা বেশি এখানে। প্রশাসনের কাছে আবেদন এই বাতিগুলো যেন দ্রুত ঠিক করা হয়। 

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বলেন, ওয়াই ব্রিজের দু’পাশের বাতিগুলো নষ্ট হয়ে আছে— বিষয়টি আমি অবগত। ব্রিজের বাতির জন্য জেলা পরিষদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সোলার বাতি স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

এছাড়াও ওয়াই ব্রিজসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের জন্য মোট ৩৭টি স্থানে আলোকায়ন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বাতিগুলো পুনঃস্থাপনের জন্য আমরা চাহিদাপত্র উপর মহলে পাঠিয়েছি। আশা করছি লাইটগুলো এসে যাবে। সূত্র: কালের কণ্ঠ 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়