গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি আবাসিক হোটেলে রাতভর ধর্ষণের পর এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে হোটেল থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিকসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে মামলার পর আজ শনিবার গ্রেপ্তার দুজনকে গাজীপুর কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত কিশোরী গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নয়াপাড়া কৃষ্ণপুর এলাকার জুবায়দুল ইসলামের মেয়ে জোনাকি (১৭)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ‘আব্দুল মান্নান প্লাজা’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মমিনুল ইসলাম মোহন ও আতিকুর রহমান নামের দুই যুবক কিশোরী জোনাকিকে নিয়ে হোটেলে ওঠেন। সেখানে মমিনুল জোরপূর্বক তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এতে কিশোরীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরে মমিনুল ও তাঁর সহযোগী আতিকুর কিশোরীকে একটি ওষুধের দোকানে নিয়ে গিয়ে কিছু ওষুধ ব্যবহার করেন। কিন্তু রক্তক্ষরণ না থামায় তাঁরা একটি অটোরিকশা ভাড়া করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এরপর তাঁরা একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার পথে রওনা দেন। কিন্তু পথে শুক্রবার ভোরে কিশোরী জোনাকি মারা যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে অ্যাম্বুলেন্সচালক কৌশলে গাড়িটি ঘুরিয়ে মির্জাপুর থানায় নিয়ে যান। পুলিশ দুজনকে আটক করে এবং পরে কালিয়াকৈর থানায় খবর দেয়।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা-পুলিশ মির্জাপুর থেকে লাশ উদ্ধার করে। পরে মমিনুল ইসলাম মোহন (২২) ও আতিকুর রহমানকে (২৩) গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। গ্রেপ্তার মমিনুল রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার উত্তর সাজুরিয়া এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে। আতিকুর পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচূড়া এলাকার শাহ আলমের ছেলে।
গ্রেপ্তার দুজনের ভাষ্যমতে পুলিশ জানায়, দুজনই সাভারের আশুলিয়া এলাকায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে কিশোরী জোনাকির সঙ্গে মমিনুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিন বছর ধরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক চলছিল।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, শুক্রবার বিকেলে লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।